তৈয়্যবুর রহমান নিজস্ব প্রতিবেদক |
১৯৭৭ সাল। বাংলার পল্লী জনপদে যখন অন্ধকারের রাজত্ব ছিল, তখন এক মহান স্বপ্নদ্রষ্টা দেশের মেহনতি মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের কথা ভেবেছিলেন। গ্রাম আর শহরের ভেদাভেদ দূর করে প্রতিটি কুঁড়েঘরে আলোর রোশনাই পৌঁছে দিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গড়ে তুলেছিলেন ‘বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড’ (বিআরইবি)। আজ সেই স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানটি যখন সাফল্যের শিখরে, তখন তাকে নিয়ে কোনো অপচেষ্টা বা ষড়যন্ত্র সাধারণ মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়।
গত ৩০ মার্চ ২০২৬ তারিখে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় উঠে এসেছে সেই আবেগ এবং আগামীর সংকল্পের কথা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, এমপি।
সভায় বক্তারা অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে স্মরণ করেন সেই সোনালী দিনগুলোর কথা। শহীদ জিয়ার হাতে গড়া এই প্রতিষ্ঠানটি কেবল বিদ্যুৎ বিতরণের মাধ্যম নয়, বরং এটি ছিল কৃষি বিপ্লব, কুটির শিল্পের বিকাশ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে জাগিয়ে তোলার এক নীরব বিপ্লবের নাম। আজ দেশের আনাচে-কানাচে যে অর্থনৈতিক চাকা ঘুরছে, তার পেছনে রয়েছে বিআরইবি-র নিবেদিতপ্রাণ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অক্লান্ত পরিশ্রম।
মাননীয় বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, এমপি সভায় এক দৃঢ় ও আবেগঘন অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন-একটি বিশেষ মহলের পক্ষ থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতির স্বপ্নের এই প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করার যে কোনো অপচেষ্টা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আরইবি এবং এর অধীনস্থ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো শুরু থেকেই যেভাবে জনসেবায় নিয়োজিত ছিল, ভবিষ্যতেও ঠিক সেভাবেই কাজ করে যাবে।
মাননীয় মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, শহীদ জিয়ার আবেগ আর স্বপ্নের এই প্রতিষ্ঠানকে কোনোভাবেই দুর্বল হতে দেওয়া হবে না। বরং গ্রাহক সেবার মান বাড়িয়ে একে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করার জন্য সরকারের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব জনাব ফারজানা মমতাজ সভায় গ্রাহক সেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা দেন। সিস্টেম লস কমানো থেকে শুরু করে সৌরবিদ্যুতের প্রসার—সবক্ষেত্রেই বিআরইবি আধুনিকতার ছোঁয়া লাগাতে বদ্ধপরিকর। সভার শেষলগ্নে মাননীয় মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ যখন শহীদ জিয়ার স্বপ্নের এই প্রতিষ্ঠানে বারবার ফিরে আসার আকুতি ব্যক্ত করেন, তখন উপস্থিত সবার মাঝে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড কোনো সাধারণ সংস্থা নয়; এটি কোটি মানুষের ভালোবাসা আর একজন দূরদর্শী নেতার দেশপ্রেমের ফসল। এই দীপশিখাকে অনির্বাণ রাখতে বিআরইবি-র প্রতিটি সদস্য আজ ঐক্যবদ্ধ।