
বাংলাদেশের একমাত্র বিচ্ছিন্ন দ্বীপ জেলা হলো কুইন আইল্যান্ড খ্যাত ভোলা। এ দ্বীপের মানুষগুলোর রয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে লড়াই-সংগ্রাম করে বেঁচে থাকার শত বছরের ইতিহাস। ইতিহাস ও ঐতিহ্য লালিত এ দ্বীপটির শিক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কিছুটা দৃশ্যমান হলেও স্বাস্থ্য সেবায় পিছিয়ে আছে অবহেলিত এ দ্বীপের মানুষগুলো। প্রায় ২২ লক্ষ মানুষের বসবাস এ দ্বীপের সাথে দেশের মূল ভূখন্ডের কোন সড়ক যোগাযোগ না থাকায় নৌ পথই মানুষের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম। জরুরী চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকরা কোনো রোগীকে ঢাকা বা বরিশাল রেফার্ড করলে নৌ পথই একমাত্র ভরসা। সন্ধ্যা ৬ টার পর লঞ্চ পাওয়া না গেলে তাকিয়ে থাকতে হয় ফেরির দিকে। যাতায়াত ব্যবস্থার এ দুর্ভোগের কারণে পথিমধ্যেই অনেক রোগীকে মৃত্যুবরণ করতে হয়। সন্তানের সামনে বাবা-মায়ের মৃত্যু, পিতার সামনে সন্তানের অসংখ্য হৃদয়বিদারক মৃত্যু দেখেছে ভোলাবাসী। যা এ দ্বীপের মানুষের জন্য অনেক বেদনার। সম্প্রতি সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, সরকার নতুন ৮টি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের কথা বিবেচনা করছে, যার মধ্যে ভোলা অন্যতম। তবে এর নির্দিষ্ট অবস্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি। দ্বীপজেলা ভোলার ২২ লক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবি দীর্ঘদিনের। একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন ও চিকিৎসা সুবিধার সুষম বণ্টনের লক্ষ্যে ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে অনেকেই মেডিকেল কলেজটি ভোলার মধ্যবর্তী স্থান লালমোহনে করার পক্ষে মত দিয়েছেন। যার কারণ হিসেবে বলা যায় লালমোহন ভোলা জেলার মধ্যবর্তী অবস্থানে থাকায়, এটি জেলার উত্তর ও দক্ষিণ—উভয় প্রান্তের বাসিন্দাদের জন্য যাতায়াত ও চিকিৎসা সেবা গ্রহণে সুবিধা হবে। ভোলা সদরে যেহেতু ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট একটি হাসপাতাল রয়েছে। এর চিকিৎসা সেবার মান ও সুযোগ সুবিধা জেলার অন্যান্য উপজেলার তুলনায় অনেকটা এগিয়ে রয়েছে। ভোলা সদর উপজেলার নিকটবর্তী দুটি উপজেলা বোরহানউদ্দীন, দৌলতখান উপজেলার জনগণ জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা সুবিধা গ্রহণ করতে পারছেন। সে কারণে মেডিকেল কলেজটি সদরে না দিয়ে লালমোহনে স্থাপন করা হলে ভোলার উত্তর ও দক্ষিণ উভয় প্রান্তের মানুষের জন্য সুবিধা হবে।
ভোলার সর্বদক্ষিণের উপজেলা হলো চরফ্যাশন, এর শেষ প্রান্ত হতে জেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার। লালমোহন হতে চরফ্যাশন উপজেলা সদরের দূরত্ব মাত্র ২০ কিলোমিটার। চরফ্যাশন উপজেলা বাংলাদেশের ১৯টি জেলার চাইতেও বড়। এ বৃহৎ উপজেলার মানুষের চিকিৎসা সুবিধার কথা বিবেচনা করে মেডিকেল কলেজটি যদি লালমোহনে স্থাপন করা হয়৷ তাহলে চরফ্যাশন উপজেলার জনগণের জন্য সুবিধা হবে ও তাঁরা উপকৃত হবে। ভোলাবাসীর জন্য একটি মেডিকেল কলেজ এখন জনদাবী। ভোলা জেলার স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে এটি অত্যন্ত যৌক্তিক দাবি। সরকারের কাছে অনুরোধ, এই জনদাবিকে উপেক্ষা না করে তা অবিলম্বে মেনে নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব চলতি অর্থ বছরে যেন ভোলাবাসীর জন্য একটি মেডিকেল কলেজ অনুমোদন হয় তার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মাননীয় স্পিকার মেজর – অবঃ হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম মহোদয় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে প্রত্যাশা করি।
নকীব তালুকদার
ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া।
Leave a Reply